খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে ইসিবির উদ্বেগ বাড়ছে

খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম শুধু ইউরোজোনের পরিবার নয়, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) জন্যও মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম শুধু ইউরোজোনের পরিবার নয়, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) জন্যও মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অঞ্চলটির সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও ২০২২ সাল থেকে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি স্পষ্টভাবে ব্যতিক্রমী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রবণতা বজায় রেখেছে। এক ব্লগ পোস্টে এমন তথ্য দিয়েছে আর্থিক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। খবর ইউরো নিউজ।

ইসিবির প্রতিবেদন অনুসারে কভিড মহামারীর আগের তুলনায় খাবার জোগাড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে ইউরোজোনে। এছাড়া ২০১৫ সালের পর খাদ্যের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ইসিবির সুদহার নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।

২০২২ সালের অক্টোবরে রেকর্ড ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ওঠে ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতি। সেখান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে সম্প্রতি ২ শতাংশ নেমে এসেছে। তবুও ইউরোপীয় কমিশনের সাম্প্রতিক কনজিউমার স্কোরবোর্ড রিপোর্টে বলা হচ্ছে, পছন্দসই খাবার কেনার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে, এ ভাবনায় অঞ্চলটির এক-তৃতীয়াংশ মানুষ উদ্বিগ্ন।

ইসিবির মতে, খাদ্যদামের বিষয়টি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বেশি মাথাব্যথার কারণ। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় এ খাতে। অন্যদিকে দাম বাড়ার এ প্রবণতা শিগগিরই থামবে এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী ইউরোজোনে মাংসের দাম ২০১৫ সালের পর থেকে ৩৮-৪৪ শতাংশ বেড়েছে। ইসিবির পরিসংখ্যান বলছে, মাংসের দাম ২০১৯ সালের শেষ দিকের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ছয় বছরে দুধ, মাখন, কফি, জলপাই তেল, কোকো ও চকোলেটের দাম বিশেষভাবে বেড়েছে।

২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াকেও খাদ্যদাম বাড়ার অন্যতম কারণ ধরা হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ও স্থানীয়ভাবে আয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খাদ্যদামের ওপর। একই সময় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া খাদ্য উৎপাদনে উদ্বেগজনক প্রভাব ফেলছে। স্পেনের খরা জলপাই তেলের দাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে কফি ও কোকোর দাম বেড়েছে ঘানা ও কোট ডি আইভোরের মতো প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় প্রতিকূল পরিবেশের কারণে।

ইসিবি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত এসব ধরনের ঘটনা ক্রমে ঘনঘন ঘটছে, যা খাদ্য সরবরাহ চেইনকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করতে পারে।

খাদ্যদামের পরিবর্তন মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এ কারণে মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ইসিবির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসিবির লক্ষ্য এখন ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে স্থিতিশীল রাখা। এটি এইচআইসিপি সূচকের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এতে জ্বালানি, সেবা, ভোক্তা পণ্য ও খাদ্যের দাম হিসাবে রাখা হয়। এখন চারটি প্রধান খাতের মধ্যে খাদ্যদামের বৃদ্ধি ধারণ করে আছে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এইচআইসিপিতে খাদ্যপণ্যের দামের প্রভাব প্রায় ২০ শতাংশ, যা জ্বালানির প্রভাবের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। যখন চকোলেট, কফি, জলপাই তেলের মতো খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে, তখন তার প্রভাব জ্বালানির দামের তুলনায় মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতি প্রণয়নের ওপর বেশি পড়ে।

আরও